Published : 05 May 2026, 07:24 PM
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমালোচনা করার কারণে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক মুফতি। তিনি র্যাব সদস্য ও তাদের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ বিচারের আওতায় আনার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন শফিকুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের মারকাজুস সুনান মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল। তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে অপহরণ করা হয়। আজকের সাক্ষ্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের সময় একদিন তাঁকে আগের পোশাক ফিরিয়ে দিয়ে প্রস্তুত হতে বলা হয়। এরপর একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়, যা একটানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে চলে। এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তাঁকে নামানো হয়। খাবার দেওয়ার সময় চোখের বাঁধন সামান্য উপরে তুললে তিনি দেয়ালে লেখা ‘ল্যাব-১৩, রংপুর’ দেখতে পান। সেখানে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
আরও এক-দুই ঘণ্টা পর গাড়ি থামলে তাঁর চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। তখন তিনি দেখেন, ভবনের গায়ে লেখা ‘সিপিসি র্যাব-১৩, নীলফামারী’। নীলফামারীর র্যাব-১৩-তে একদিন থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের একজন সদস্য তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনি র্যাব-১-এ ছিলেন। ওখান থেকে কেউ আর ফেরে না। আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়েছেন যে আপনি এতদূর এসেছেন।’ এরপর একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রায় ১৬ মাস পর তিনি জামিন পান। আজ শফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী তাঁকে জেরা করেন। জেরায় সাক্ষী শফিকুল ইসলাম জানান, মারকাজুস সুনান মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তাঁকে ফোন করে আসতে বলা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানের মোতোয়াল্লি মো. জহির উদ্দিন তাঁকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেন।
আগামীকাল বুধবার এই মামলায় সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার দিন ধার্য করা হয়েছে। র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে বন্দী আছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম ও কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।।
এক রাতের নৃশংস হত্যা: জবানবন্দিতে মেজর সাজ্জাদুলের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি